শনিবার, ১৩ জুন, ২০২৬

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন


আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় ধরনের পতন লক্ষ্য করা গেছে। মূল্যস্ফীতির ক্রমবর্ধমান চাপ এবং যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভ (ফেড) কর্তৃক সুদহার বৃদ্ধির জোরালো আশঙ্কায় চলতি সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুটি বড় ধরনের সাপ্তাহিক লোকসানের দিকে এগোচ্ছে। তবে মধ্যপ্রাচ্যের ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান-যুক্তরাষ্ট্র শান্তি চুক্তির ইঙ্গিতে বাজারে কিছুটা অস্থিরতা ও ওঠানামা বজায় রয়েছে।

১২ জুন ২০২৬, ৩:৩০ অপরাহ্ণ 

বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মূল্যস্ফীতির বৈশ্বিক চাপ এবং মার্কিন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভের (ফেড) সম্ভাব্য সুদহার বৃদ্ধির আশঙ্কায় আন্তর্জাতিক বাজারে স্বর্ণের দামে বড় পতন ঘটেছে। এর ফলে চলতি সপ্তাহে মূল্যবান এই ধাতুটি বড় ধরনের সাপ্তাহিক লোকসানের মুখে পড়েছে।

শুক্রবার (১২ জুন) বাংলাদেশ সময় দুপুর ১২টা ১০ মিনিটে আন্তর্জাতিক বাজারে স্পট গোল্ডের দাম শূন্য দশমিক ৮ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ১৮২ দশমিক ৪৭ ডলারে নেমে আসে। এই পতনের কারণে সপ্তাহজুড়ে স্বর্ণের দাম প্রায় ৩ দশমিক ৪ শতাংশ হ্রাসের পথে রয়েছে। তবে বিপরীত চিত্র দেখা গেছে ফিউচার মার্কেটে; আগামী আগস্ট মাসে ডেলিভারির জন্য যুক্তরাষ্ট্রের স্বর্ণ ফিউচারের দাম ২ দশমিক ২ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ৪ হাজার ২০৩ দশমিক ৬০ ডলারে পৌঁছেছে।

এর আগে বৃহস্পতিবার স্বর্ণের দাম গত ছয় মাসেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে গিয়েছিল। তবে পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ইরানের বিরুদ্ধে পরিকল্পিত সামরিক হামলা বাতিল এবং শিগগিরই একটি শান্তি চুক্তি হতে পারে বলে ইঙ্গিত দেওয়ার পর বাজার কিছুটা ঘুরে দাঁড়ায় এবং ৪ হাজার ২১৯ দশমিক ৬৯ ডলারে লেনদেন শেষ করে।

বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে স্বর্ণের দাম সামগ্রিকভাবে প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে। জ্বালানি পণ্যের দাম বৃদ্ধির কারণে মূল্যস্ফীতি আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন বিনিয়োগকারীরা। আর মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো দীর্ঘ সময় ধরে সুদহার উচ্চ পর্যায়ে রাখতে বাধ্য হতে পারে। সাধারণত সুদহার উচ্চ থাকলে সুদবিহীন সম্পদ হিসেবে স্বর্ণ ধরে রাখার আকর্ষণ বিনিয়োগকারীদের কাছে কমে যায়।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে জ্বালানি পণ্যের ব্যয় বৃদ্ধি পাওয়ায় মে মাসে যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদক পর্যায়ের মূল্যসূচক প্রত্যাশার চেয়ে বেশি বেড়েছে। এর ফলে দেশটির বার্ষিক মূল্যবৃদ্ধি সাড়ে তিন বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। সিএমই গ্রুপের ফেডওয়াচ টুলের তথ্য অনুযায়ী, আগামী ডিসেম্বর মাসে ফেডের সুদহার বৃদ্ধির সম্ভাবনা বর্তমানে বাজারে প্রায় ৬০ শতাংশ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

অন্যদিকে, ভূরাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বৃহস্পতিবার জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহান্তেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান একটি শান্তি চুক্তি স্বাক্ষর করতে পারে, যা হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার স্বাভাবিক করবে। তবে ইরান জানিয়েছে, কোনো চুক্তির বিষয়ে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।

বাজারের এই মন্দা ভাবের প্রভাব পড়েছে স্বর্ণভিত্তিক বিশ্বের বৃহত্তম এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড নিউইয়র্কভিত্তিক এসপিডিআর গোল্ড ট্রাস্টের ওপর। গত বুধবার তহবিলটির ধারণকৃত স্বর্ণের মজুদ প্রায় শূন্য দশমিক ৩ শতাংশ কমে ৯২৩ দশমিক ৮৯ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে। বর্তমান বাজারের এই অস্থিরতা বিবেচনা করে এএনজেড ব্যাংক চলতি বছরের শেষ নাগাদ স্বর্ণের মূল্য লক্ষ্যমাত্রা ৪০০ ডলার কমিয়ে ৫ হাজার ২০০ ডলার নির্ধারণ করেছে।

স্বর্ণের পাশাপাশি অন্যান্য মূল্যবান ধাতুর বাজারেও মিশ্র প্রভাব দেখা গেছে। রুপার দাম শূন্য দশমিক ৯ শতাংশ কমে প্রতি আউন্স ৬৬ দশমিক ৭৮ ডলারে নেমেছে। প্লাটিনামের দাম শূন্য দশমিক ৪ শতাংশ বেড়ে ১ হাজার ৭২৫ দশমিক ৯৯ ডলারে উঠলেও সপ্তাহজুড়ে এটি লোকসানের দিকেই রয়েছে। অন্যদিকে, প্যালাডিয়ামের দাম ১ দশমিক ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি আউন্স ১ হাজার ২৯০ দশমিক ১৫ ডলারে পৌঁছেছে এবং সপ্তাহজুড়ে ধাতুটির দাম প্রায় ৫ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।