ইউক্রেনে রুশ হামলায় নিহত ২৮, চেরনিহিভে প্রাণ গেল পাঁচ শিশুর
১০ অক্টোবর ২০২৬, ৭:১৩ অপরাহ্ণ
দেশের ব্যাংক খাতের আর্থিক ক্ষতি কাটিয়ে কাঠামোগত সংস্কার ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে বছরে ৬০ হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোস্তাকুর রহমান। তিনি বলেন, অতীতে ব্যাপক অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের কারণে ব্যাংকিং ব্যবস্থার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা ও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন।
শনিবার (১০ অক্টোবর) রাজধানীর ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটিতে (ইউআইইউ) ওয়ান ব্যাংক পিএলসি আয়োজিত বাংলা কিউআর লেনদেনের প্রচার অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন গভর্নর।
ব্যাংক খাতে অর্থপাচার ও আর্থিক অনিয়মের চিত্র তুলে ধরে মো. মোস্তাকুর রহমান বলেন, দায়িত্ব নেওয়ার সময় ব্যাংকিং ব্যবস্থার মোট তহবিলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ লুট হয়ে গিয়েছিল। বিপুল পরিমাণ এই অর্থ দিয়ে দেশের দুই কোটি পরিবারকে সহায়তা দেওয়া সম্ভব হতো। একই অর্থ দিয়ে পদ্মা সেতুর মতো দুটি বড় অবকাঠামো প্রকল্পও নির্মাণ করা যেত।
আর্থিক খাতে সংঘটিত অনিয়মের ভয়াবহতা তুলে ধরে গভর্নর বলেন, জনগণের অর্থ লুটপাটের মাধ্যমে দেশের ব্যাংকিং ব্যবস্থাকে ক্ষতিগ্রস্ত করা হয়েছে। এ ধরনের অপরাধের ব্যাপকতা বোঝাতে প্রচলিত শব্দ যথেষ্ট নয়। এটি সাধারণ চুরির ঘটনা নয়; বরং পরিকল্পিতভাবে জনগণের অর্থ আত্মসাতের ঘটনা।
তিনি বলেন, ব্যাংক খাতের ক্ষতি কাটিয়ে আর্থিক স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনতে দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নিতে হবে। এ জন্য আগামী পাঁচ থেকে আট বছর জাতীয় বাজেট থেকে প্রতিবছর ৬০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের প্রয়োজন হবে। কাঠামোগত সংস্কার ও পুনর্গঠনের মাধ্যমে ব্যাংকিং খাতকে শক্তিশালী করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।
আর্থিক অনিয়ম ও অর্থপাচারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের জবাবদিহির আওতায় আনার বিষয়েও গুরুত্ব দেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর। তিনি জানান, এসব ঘটনায় সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে। পাশাপাশি লুট হওয়া অর্থ ও সম্পদ পুনরুদ্ধারেও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ব্যাংক খাতের দীর্ঘদিনের অনিয়ম, খেলাপি ঋণ ও আর্থিক দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে কার্যকর তদারকি, সুশাসন এবং জবাবদিহি নিশ্চিত করা জরুরি। তবে ব্যাংক খাত পুনর্গঠনে বিপুল সরকারি অর্থের প্রয়োজন হলে তা ব্যবহারের স্বচ্ছতা এবং কাঙ্ক্ষিত ফলাফল নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ হবে।