ইতিহাস গড়লেন • মাত্র তৃতীয় টেস্টেই ডাবল সেঞ্চুরি, হৃদয়ের অবিশ্বাস্য কীর্তি
১৭ জুন ২০২৬, ১:৫১ অপরাহ্ণ
চট্টগ্রামের ইপিজেডে শিশু আলিনা ইসলাম আয়াতকে অপহরণের পর নৃশংসভাবে হত্যা ও লাশ ছয় টুকরো করে সাগরে ভাসিয়ে দেওয়ার ঘটনায় প্রধান আসামি ও প্রতিবেশী আবীর আলীর মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
আজ বুধবার (১৭ জুন, ২০২৬) দুপুরে চট্টগ্রামের ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মুহাম্মদ আলী আক্কাস বহুল আলোচিত এই মামলার রায় ঘোষণা করেন। রায় ঘোষণার সময় আসামি আবীর আলী আদালতে উপস্থিত ছিলেন। রাষ্ট্রপক্ষের সরকারি কৌঁসুলি জালাল উদ্দিন রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, দীর্ঘ বিচারপ্রক্রিয়া ও ৩৩ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শেষে আদালত আসামির সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করেছেন।
মামলার বিবরণী থেকে জানা যায়, ২০২২ সালের ১৫ নভেম্বর চট্টগ্রাম নগরীর ইপিজেড থানার নয়ারহাট ওয়াছ মুন্সী বাড়ির বাসিন্দা সোহেল রানার পাঁচ বছর বয়সি মেয়ে আলিনা ইসলাম আয়াত নিখোঁজ হয়। এ ঘটনায় ইপিজেড থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়। পরবর্তীতে পিবিআই (পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন) ঘটনার ছায়া তদন্ত শুরু করে সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনার মাধ্যমে প্রতিবেশী ও তাদের বাসার ভাড়াটিয়া আবীর আলীকে শনাক্ত করে।
একই বছরের ২৫ নভেম্বর আবীর আলীকে গ্রেপ্তার করা হলে পিবিআইয়ের কাছে এবং পরবর্তীতে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন তিনি। জবানবন্দিতে আবীর জানান, মুক্তিপণ আদায়ের উদ্দেশ্যে আয়াতকে অপহরণ করেছিলেন তিনি। কিন্তু আয়াত চিৎকার শুরু করলে তাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। পরে আয়াতে মরদেহ আড়াল করতে তা কেটে ছয় টুকরো করে আকমল আলী রোডের স্লুইস গেট সংলগ্ন সাগরে এবং সংলগ্ন খালে ভাসিয়ে দেওয়া হয়। পরবর্তীতে পিবিআই সাগরের উপকূলীয় এলাকা থেকে আয়াতের লাশের খণ্ডিত অংশ উদ্ধার করেছিল।
এই নৃশংস হত্যাকাণ্ড তৎকালীন সময়ে পুরো বাংলাদেশে তীব্র ক্ষোভ ও আলোচনার জন্ম দেয়। দীর্ঘ সাড়ে তিন বছর পর আদালতের এই রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন আয়াতের পরিবার ও রাষ্ট্রপক্ষ।