রবিবার, ২১ জুন, ২০২৬

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের শীর্ষে ঢাকা


টিকা কার্যক্রম জোরদার করার পরও দেশব্যাপী হামের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে আসছে না। গত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই স্বাস্থ্য সংকটে প্রতিদিনই প্রাণ হারাচ্ছে শিশুরা। সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যার মধ্যে ৬ জনই ঢাকার। একই সময়ে নতুন করে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৭ জন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত দেশজুড়ে মোট ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে এবং আক্রান্তের সংখ্যা লক্ষাধিক ছাড়িয়েছে।

২০ জুন ২০২৬, ৮:৪৬ অপরাহ্ণ 

২৪ ঘণ্টায় আরও ৭ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্তের শীর্ষে ঢাকা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

দেশব্যাপী হামের সংক্রমণ আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। বিগত তিন মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই প্রাদুর্ভাবে শিশুদের মৃত্যুর মিছিল থামছেই না। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের শনিবারের (২০ জুন) সর্বশেষ প্রতিবেদন অনুযায়ী, সবশেষ ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ঢাকা বিভাগেই মারা গেছে ৬ শিশু। এই এক দিনে নতুন করে রোগটিতে আক্রান্ত হয়েছেন ৮৮৭ জন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, গত ১৫ মার্চ সকাল ৮টা থেকে ২০ জুন সকাল ৮টা পর্যন্ত-এই তিন মাসে সারা দেশে হাম এবং হামের উপসর্গ নিয়ে মোট ৬৭৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এর মধ্যে ল্যাব টেস্টে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৯৩ জন। বাকি ৫৮৪ জন মারা গেছে হামের তীব্র উপসর্গ নিয়ে।

একই সময়ে ল্যাব পরীক্ষায় নিশ্চিতভাবে হাম শনাক্ত হয়েছে ১০ হাজার ৯৪৯ জনের শরীরে। এ ছাড়া হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন আরও ৯১ হাজার ৭৮৯ জন।

সবচেয়ে ঝুঁকিতে ঢাকা বিভাগ

চলতি প্রাদুর্ভাবে আক্রান্ত ও মৃত্যুর পরিসংখ্যানে দেশের অন্য সব বিভাগের চেয়ে শীর্ষে রয়েছে ঢাকা বিভাগ। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, মোট মৃত্যুর প্রায় অর্ধেকই ঘটেছে এই বিভাগে। এক নজরে হামের চিত্র (১৫ মার্চ - ২০ জুন):

সারাদেশে মোট মৃত্যু: ৬৭৭ জন (নিশ্চিত হাম: ৯৩, উপসর্গসহ: ৫৮৪)

সারাদেশে মোট আক্রান্ত: ১,০২,৭৩৮ জন (নিশ্চিত হাম: ১০,৯৪৯, উপসর্গসহ: ৯১,৭৮৯)

ঢাকা বিভাগে মৃত্যু: ৩০৪ জন

ঢাকা বিভাগে আক্রান্ত: ৪৯,৭৮৩ জন

বিশেষজ্ঞ ও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, সারা দেশে হামের টিকা কার্যক্রম জোরদার করা হলেও মাঠপর্যায়ে সংক্রমণ এখনো নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব হয়নি। আক্রান্তের এই ঊর্ধ্বমুখী গ্রাফ শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করছে।