নির্বাচন নিয়ে ইসির নতুন পরিকল্পনা
১০ জুলাই ২০২৬, ১০:১৪ পূর্বাহ্ণ
কয়েক দিনের টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে দক্ষিণ চট্টগ্রামের সাতকানিয়া, লোহাগাড়া, চন্দনাইশ ও বাঁশখালীর বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হয়ে মানবিক বিপর্যয়ের সৃষ্টি হয়েছে। স্থানীয় নদ-নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হওয়ায় বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি ঘটছে।
জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় সূত্র জানায়, বন্যা ও ঢলে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সাতকানিয়া উপজেলা। উপজেলার ১৭টি ইউনিয়ন ও একটি পৌরসভার প্রতিটি গ্রাম এখন পানির নিচে।ডলু নদীর বাঁধ ভেঙে পৌরসভা ও রামপুর এলাকায় পানি প্রবেশ করায় পরিস্থিতি মারাত্মক রূপ নিয়েছে। কেবল সাতকানিয়াতেই অন্তত তিন লাখ লোক পানিবন্দী রয়েছেন। দুর্গতদের জন্য ৮৯টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হলেও ঝড়ে গাছ পড়ে বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে এবং মোবাইল নেটওয়ার্ক বিভ্রাটের কারণে তথ্য আদান-প্রদানে বেগ পেতে হচ্ছে। সেখানে উদ্ধারকাজে গতি আনতে জরুরি ভিত্তিতে ১০টি স্পিডবোট চাওয়া হয়েছে।
অন্যান্য উপজেলার মধ্যে বাঁশখালীর পুঁইছড়ি, নাপোড়া, ছনুয়া, সরল, শেখের খীল, বৈলছড়ী ও কাথারিয়া ইউনিয়নের অবস্থা সবচেয়ে খারাপ। সেখানে অন্তত ৩৮ হাজার মানুষ পানিবন্দী রয়েছেন । হাশিমপুর ও জোয়ারা ছাড়া বাকি সবকটি ইউনিয়ন দুর্গত হয়েছে, যেখানে প্রায় ১৪ হাজার লোক পানিবন্দী এবং সুরক্ষায় ২৭টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। এছাড়া লোহাগাড়ার সাঙ্গু ও ডলু নদী সংলগ্ন আমিরাবাদ, আধুনগর, পদুয়া ও লোহাগাড়া ইউনিয়নে পানি প্রবেশ করেছে, যার মধ্যে আমিরাবাদ সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, সাঙ্গু নদীর দোহাজারী অংশে পানি বিপৎসীমার ১৪ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। সাঙ্গু, ডলু ও হাঙ্গর খালের পাহাড়ি ঢল ভাটি অঞ্চলে নামতে থাকায় নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। তবে পতেঙ্গা আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে, রোববার থেকে টানা বৃষ্টির পর আজ বর্ষণের তীব্রতা কিছুটা কমেছে; সন্ধ্যা পর্যন্ত ২২৩ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
দুর্যোগ মোকাবিলায় সরকারি তৎপরতা জোরদার করা হয়েছে। বন্যাদুর্গতদের জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয় থেকে ইতিমধ্যে ২০০ মেট্রিক টন চাল এবং ১০ লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর তহবিল থেকে আরও ২০ লাখ টাকা পাওয়া গেছে। বানভাসি মানুষ যেন খাদ্যসংকটে না পড়ে, সেজন্য এসব বরাদ্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) চাহিদার ভিত্তিতে দ্রুত বিতরণ করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত বন্যায় কোনো প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়নি।