শুক্রবার, ১০ জুলাই, ২০২৬

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ দফা পদক্ষেপ


টানা ভারী বর্ষণ ও আকস্মিক বন্যায় বিপর্যস্ত চট্টগ্রাম অঞ্চলের দুর্যোগ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে এবং দুর্গত মানুষের পাশে দাঁড়াতে ১০টি জরুরি ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। শুক্রবার (১০ জুলাই) দুপুরে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ও উপদেষ্টা মাহদী আমিন এক ফেসবুক পোস্টের মাধ্যমে এই বিশেষ উদ্যোগগুলোর কথা বিস্তারিতভাবে প্রকাশ করেন। সংকট মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও সেনাবাহিনীর পাশাপাশি সরকারি দল বিএনপির নেতাকর্মীদেরও সমন্বিতভাবে মাঠে কাজ করার নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।

১০ জুলাই ২০২৬, ৯:২৬ অপরাহ্ণ 

চট্টগ্রাম অঞ্চলের বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের ১০ দফা পদক্ষেপ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

চট্টগ্রাম, কক্সবাজার ও পার্বত্য তিন জেলাসহ দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে সৃষ্ট বন্যা ও দুর্যোগ পরিস্থিতি সার্বক্ষণিক তদারকি করছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন জানান, দুর্গত মানুষের উদ্ধার, ত্রাণ বিতরণ ও দীর্ঘমেয়াদি পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে সরকার অত্যন্ত দ্রুততার সঙ্গে পদক্ষেপ নিচ্ছে। দলের নেতাকর্মীদের নির্দেশ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, দলমতের ঊর্ধ্বে উঠে মাঠপর্যায়ে ক্ষতিগ্রস্তদের সর্বোচ্চ সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।

প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় সূত্রে দুর্যোগ মোকাবিলায় গৃহীত ১০টি প্রধান উদ্যোগ হলো:

১. সার্বক্ষণিক মনিটরিং: প্রধানমন্ত্রী নিজে সার্বক্ষণিকভাবে বন্যা পরিস্থিতির খোঁজ-খবর নিচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে নিয়মিতভাবে জেলা প্রশাসক (ডিসি), উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে যোগাযোগ রেখে প্রয়োজনীয় দিকনির্দেশনা দেওয়া হচ্ছে। 

২. আশ্রয়কেন্দ্র স্থাপন: চট্টগ্রাম বিভাগের দুর্যোগকবলিত এলাকায় ইতোমধ্যে ১ হাজার ৫৭টি আশ্রয়কেন্দ্র চালু করা হয়েছে। যেখানে ১২ হাজারের বেশি মানুষ নিরাপদ আশ্রয় নিয়েছেন। 

৩. নগদ অর্থ ও খাদ্য সহায়তা: জেনারেল রিলিফ (জিআর) কর্মসূচির আওতায় বন্যা কবলিত ৫টি জেলার (চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি ও বান্দরবান) জন্য ২ কোটি ১৫ লাখ টাকা নগদ অনুদান এবং ৩ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চাল দ্রুততম সময়ে বরাদ্দ ও বিতরণ করা হয়েছে। 

৪. মৌলিক চাহিদা নিশ্চিতকরণ: দুর্গত এলাকায় নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ব্যবস্থা, জরুরি স্বাস্থ্যসেবা, শিশুখাদ্য এবং তিন বেলা খাবার সরবরাহ নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। 

৫. সেনাবাহিনী মোতায়েন: পাহাড়ি এলাকায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় উদ্ধার কার্যক্রম গতিশীল করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি প্রয়োজনবোধে সেনাবাহিনী মোতায়েন করা হয়েছে। 

৬. জনপ্রতিনিধিদের মাঠে অবস্থান: প্রধানমন্ত্রীর বার্তা পৌঁছে দিতে এবং ত্রাণ কার্যক্রম তদারকি করতে স্থানীয় সংসদ সদস্য ও জনপ্রতিনিধিবৃন্দ প্লাবিত অঞ্চল পরিদর্শন করছেন এবং সশরীরে দুর্গত মানুষের পাশে থাকছেন। 

৭. সমন্বিত উদ্ধার অভিযান: রাষ্ট্র পরিচালনাকারী দল বিএনপির সর্বস্তরের নেতাকর্মী, সরকারের প্রশাসন, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, সেনাবাহিনী এবং কোস্টগার্ড মাঠপর্যায় থেকে কেন্দ্র পর্যন্ত একযোগে সমন্বিতভাবে কাজ করছে। 

৮. এইচএসসি পরীক্ষা স্থগিত: ভারী বর্ষণ, বন্যা ও ভূমিধস পরিস্থিতির ভয়াবহতা বিবেচনা করে দুর্গত এলাকার চলমান এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়েছে। 

৯. ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি পরিদর্শন: দুর্যোগে হতাহতদের পরিবারের সদস্যদের সমবেদনা জানাতে এবং প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তারা নেতাকর্মীদের সঙ্গে নিয়ে ক্ষতিগ্রস্তদের বাড়ি বাড়ি যাচ্ছেন। 

১০. যোগাযোগ ও পুনর্বাসন পরিকল্পনা: পানির নিচে তলিয়ে যাওয়া চট্টগ্রাম-দোহাজারী রেলপথের জলাবদ্ধতার ঝুঁকি কমাতে সেটি ৫ ফুট উঁচু করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে এবং ৪৭ কিলোমিটার রেলপথের উচ্চতা বৃদ্ধির কাজের দরপত্র প্রক্রিয়া ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। এছাড়া পাহাড়ধসের ঝুঁকিতে থাকা বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ স্থানে স্থায়ী আবাসনের ব্যবস্থা করবে সরকার।

প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন তাঁর ফেসবুক পোস্টে গভীর আশাবাদ ব্যক্ত করে বলেন, "আমরা বিশ্বাস করি সরকারের দ্রুত সিদ্ধান্ত, মানবিক প্রয়াস ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা খুব দ্রুত এই দুর্যোগ কাটিয়ে উঠতে সক্ষম হব। প্রধানমন্ত্রী এই সংকটে গভীর ভালোবাসা ও দায়বদ্ধতা নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে আছেন।"