ছাত্রশিবির ছাড়লেন ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, নামছেন মেয়র নির্বাচনী লড়াইয়ে
১৪ জুলাই ২০২৬, ৯:১৩ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রয়োজনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের সুযোগ রাখতে বিদ্যমান আইনে সংশোধন আনতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। এ লক্ষ্যে স্থানীয় সরকার নির্বাচন সংশ্লিষ্ট আইনে ‘আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী’র সংজ্ঞা পরিবর্তনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
ইসি সূত্রে জানা গেছে, এ বিষয়ে চলতি সপ্তাহেই কমিশনের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বৈঠকে সংশোধনীর খসড়া পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। সংশোধনী কার্যকর হলে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের সময় প্রয়োজন অনুযায়ী সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের আইনি ভিত্তি তৈরি হবে।
নির্বাচন কমিশনের কর্মকর্তারা জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) সংশোধনের মাধ্যমে সশস্ত্র বাহিনীকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। এবার একই ধরনের বিধান স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও যুক্ত করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।
বর্তমানে ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি কর্পোরেশন নির্বাচন-সংক্রান্ত ২০০৯ সালের আইনে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বলতে পুলিশ, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন), র্যাব, আনসার, আনসার ব্যাটালিয়ন, বিজিবি, কোস্ট গার্ড এবং প্রতিরক্ষা সেবা বিভাগকে বোঝানো হয়েছে। তবে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী ও বিমানবাহিনী এই সংজ্ঞার অন্তর্ভুক্ত নয়।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সংজ্ঞাসহ কয়েকটি বিষয়ে সংশোধনী আনার কাজ চলছে। স্থানীয় সরকারের কিছু স্তরের নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনীর অন্তর্ভুক্তির বিধান থাকলেও অন্য ক্ষেত্রে নেই। যেসব ক্ষেত্রে নেই, সেখানে তা যুক্ত করা হবে। জেলা পরিষদ নির্বাচন ছাড়া স্থানীয় সরকারের অন্যান্য নির্বাচনে এই বিধান অন্তর্ভুক্ত করার পরিকল্পনা রয়েছে।
মঙ্গলবার অথবা বুধবার কমিশনের বৈঠকে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হতে পারে। সংশোধনী কার্যকর হলে প্রতিটি স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েন বাধ্যতামূলক হবে কি না-এমন প্রশ্নের জবাবে আবদুর রহমানেল মাছউদ বলেন, সংজ্ঞায় অন্তর্ভুক্ত করা মানেই তাদের মোতায়েন বাধ্যতামূলক নয়। পরিস্থিতি বিবেচনায় প্রয়োজন হলে মোতায়েন করা হবে, আর প্রয়োজন না হলে করা হবে না।
বাংলাদেশে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে সশস্ত্র বাহিনী মোতায়েনের নজির নেই। তবে ২০১১ সালের অক্টোবরে নারায়ণগঞ্জ সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনের আগে পাঁচ দিনের জন্য সেনাবাহিনী মোতায়েনের অনুরোধ জানিয়েছিল তৎকালীন নির্বাচন কমিশন। যদিও সেই অনুরোধ বাস্তবায়িত হয়নি।
অন্যদিকে, গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় প্রায় এক লাখ তিন হাজার সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যকে আট দিনের জন্য মোতায়েন করা হয়েছিল। ভোটের আগে তিন দিন, ভোটের দিন এবং ভোটের পর চার দিন তারা দায়িত্ব পালন করেন।
বর্তমানে দেশে ৪ হাজার ৫৮০টি ইউনিয়ন পরিষদ, ৩৩০টি পৌরসভা, ৫০০টি উপজেলা পরিষদ, ৬১টি জেলা পরিষদ এবং ১৩টি সিটি কর্পোরেশন রয়েছে। দুই বছরের বেশি সময় ধরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন না হওয়ায় এবং বহু জনপ্রতিনিধির মেয়াদ শেষ হয়ে যাওয়ায় বড় ধরনের নির্বাচনী ব্যাকলগ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে আগামী অক্টোবরের প্রথমার্ধে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের ধারাবাহিকতা শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ জন্য আগামী আগস্টের প্রথমার্ধে তফসিল ঘোষণার প্রস্তুতি চলছে। ইতোমধ্যে নির্বাচন পরিচালনার একটি রোডম্যাপ তৈরি করা হয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয় সরকারের পাঁচ স্তরের আচরণবিধির খসড়া জনমত গ্রহণের জন্য কমিশনের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ছাড়া ভোটকেন্দ্র স্থাপন ও ব্যবস্থাপনা নির্দেশিকা-২০২৫ সংশোধন করেছে নির্বাচন কমিশন। নতুন পরিকল্পনা অনুযায়ী, প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে ভোটকেন্দ্র স্থাপনের বিষয়টি বিবেচনা করা হচ্ছে।
নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ আরও জানান, এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বিধানেও পরিবর্তনের বিষয়টি বিবেচনাধীন রয়েছে। প্রস্তাব অনুযায়ী, বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা নির্বাচনে অংশ নিতে পারলেও এমপিওভুক্ত শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষকরা প্রার্থী হতে পারবেন না। তিনি বলেন, "আমরা আশা করছি, আগামী অক্টোবর থেকেই স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু করা সম্ভব হবে।"