শর্তসাপেক্ষে সম্পত্তি দানে আজীবন ভোগের অধিকার, বিল পাস
৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৩৩ পূর্বাহ্ণ
স্থানীয় সরকার নির্বাচনে ভোটারকে প্রভাবিত করার নানা প্রচেষ্টা ঠেকাতে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও সিটি করপোরেশন নির্বাচনের জন্য পৃথক আচরণবিধি প্রণয়ন করা হয়েছে। গত সোমবার এসব আচরণবিধির গেজেট প্রকাশ করে ইসি।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি ভোটারকে প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে ভোটারের ব্যক্তিগত জাতীয় পরিচয়পত্রের (NID) নম্বর সংগ্রহ করতে পারবেন না। পাশাপাশি মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেসের মাধ্যমে লেনদেনের জন্য ভোটার বা তাঁর পরিবারের সদস্যদের মোবাইল নম্বরও সংগ্রহ করা নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
জাতীয় সংসদ নির্বাচনের মতো স্থানীয় সরকার নির্বাচনেও পোস্টার ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কেউ নির্বাচনী এলাকায় কোনো ধরনের পোস্টার ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ছাড়া পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর উপাদান দিয়ে তৈরি প্রচারপত্র, লিফলেট, হ্যান্ডবিল, ব্যানার বা প্রতীক ব্যবহারের ক্ষেত্রেও বিধিনিষেধ রাখা হয়েছে।
নির্বাচনী এলাকার ভবন, দেয়াল, গাছ, বেড়া, বিদ্যুতের খুঁটি, সরকারি ও স্থানীয় কর্তৃপক্ষের স্থাপনা, সেতু, কালভার্ট, মেট্রোরেলের পিলার, ফ্লাইওভারসহ বিভিন্ন স্থানে প্রচারসামগ্রী লাগানো যাবে না। তপশিল ঘোষণার পর থেকে ফলাফল গেজেট আকারে প্রকাশ করা পর্যন্ত কোনো প্রকাশ্য মিছিলও করা যাবে না।
নির্বাচনী প্রচারে বিলবোর্ড ব্যবহার করা গেলেও এবার এর আকার ও সংখ্যা নির্দিষ্ট করে দিয়েছে ইসি। একটি বিলবোর্ডের সর্বোচ্চ আয়তন হতে পারবে ১৬ ফুট বাই ৮ ফুট। কোনো প্রার্থী প্রতি ওয়ার্ডে একটির বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করতে পারবেন না। এ ছাড়া জনসাধারণের চলাচল, যানবাহন চলাচল কিংবা পরিবেশের ক্ষতি করে কোনো বিলবোর্ড স্থাপন করা যাবে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নির্বাচনী প্রচারণার ক্ষেত্রেও নতুন বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে। প্রার্থী বা তাঁর পক্ষের ব্যক্তিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচারের ক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট মাধ্যমের তথ্য আগেই দিতে হবে। নির্বাচনী পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে- এমন ব্যক্তিগত কুৎসা, অপমানজনক বক্তব্য, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য এবং বিদ্বেষপূর্ণ বক্তব্য প্রচার করা যাবে না। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারের জন্য কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই দিয়ে তৈরি কনটেন্ট ব্যবহারের ওপরও নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে।
মসজিদ, মন্দির, প্যাগোডা, গির্জা, ক্যায়াংসহ কোনো ধর্মীয় উপাসনালয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালানো যাবে না। সরকারি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও প্রচারণা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের অনুমোদন সাপেক্ষে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মাঠ নির্বাচনী কাজে ব্যবহার করা যাবে।
ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা ও সিটি করপোরেশনের প্রতিটি ওয়ার্ডে একটি করে মাইক ব্যবহারের বিধান রাখা হয়েছে। জেলা পরিষদ নির্বাচনে মাইকের সংখ্যা নির্দিষ্ট করা হয়নি। উপজেলা নির্বাচনের ক্ষেত্রে উপজেলার অধীন কোনো ইউনিয়ন বা পৌরসভায় একই সময়ে পথসভা বা নির্বাচনী প্রচারণায় কোনো প্রার্থী বা তাঁর পক্ষে অন্য কোনো ব্যক্তি, সংস্থা বা প্রতিষ্ঠান একটির বেশি মাইক বা শব্দের মাত্রা বর্ধনকারী যন্ত্র ব্যবহার করতে পারবেন না। নির্বাচনী এলাকায় দুপুর ১২টার আগে এবং সূর্যাস্তের পর মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্র ব্যবহার করে প্রচারণা চালানো যাবে না। প্রচারে ব্যবহৃত মাইক বা শব্দবর্ধক যন্ত্রের শব্দের মাত্রা সর্বোচ্চ ৬০ ডেসিবেল নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন আচরণবিধিতে ভোটকেন্দ্রের ৪০০ গজের মধ্যে ভোটার স্লিপ বিতরণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ভোটার স্লিপে প্রার্থীর নাম, ঠিকানা, প্রতীক ও ভোট দেওয়ার সময়সংক্রান্ত তথ্য থাকতে পারবে। তবে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর নাম, ছবি বা প্রতীক এমনভাবে ব্যবহার করা যাবে না, যাতে ভোটার বিভ্রান্ত হন। এ ছাড়া নির্বাচনী প্রচারে হেলিকপ্টার বা অন্য কোনো আকাশযান ব্যবহার করা যাবে না। প্রচারের উদ্দেশ্যে ট্রাক, বাস, মোটরসাইকেল, নৌযান, ট্রেনসহ বিভিন্ন যানবাহনে চড়ে মিছিল বা শোভাযাত্রা করাও নিষিদ্ধ করা হয়েছে।
আচরণবিধির কোনো বিধান লঙ্ঘন করলে সর্বোচ্চ ছয় মাসের কারাদণ্ড অথবা সর্বোচ্চ ৫০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড কিংবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। এ ছাড়া আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ প্রমাণিত হলে নির্বাচন কমিশন সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করতে পারবে। কোনো প্রার্থী বা তাঁর নির্বাচনী এজেন্টের বিরুদ্ধে আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ তদন্তে প্রমাণিত হলে ইসি প্রার্থিতা বাতিলের ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারবে।
এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনার আব্দুর রহমানেল মাছউদ বলেন, আগে দলীয়ভাবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন হতো। এখন নির্দলীয়ভাবে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। তাই নতুন করে আচরণবিধি প্রণয়ন করতে হচ্ছে। তিনি জানান, আগামী নভেম্বরের শেষার্ধ থেকে স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচন শুরু করতে চায় নির্বাচন কমিশন। এ ক্ষেত্রে ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচন দিয়ে কার্যক্রম শুরু হতে পারে।