সোমবার, ১৫ জুন, ২০২৬

ভিনির গোলে লড়াইয়ে শেষ রক্ষা ব্রাজিলের


আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ আর গ্যালারি কাঁপানো উন্মাদনায় ঠাসা ম্যাচে কেউ কাউকে একচুলও ছাড় দিল না। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে ২০২৬ বিশ্বকাপের 'সি' গ্রুপের হাইভোল্টেজ ম্যাচে মরক্কোর মুখোমুখি হয়েছিল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। টানটান উত্তেজনার ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত ১-১ গোলের সমতায় শেষ হয়েছে। ইসমাইল সাইবারির গোলে মরক্কো প্রথমে লিড নিয়ে ব্রাজিল শিবিরে কাঁপন ধরালেও, রিয়াল মাদ্রিদ তারকা ভিনিসিউস জুনিয়রের জাদুকরী গোলে সমতায় ফেরে কার্লো আনচেলত্তির দল। এই ড্রয়ের ফলে কম হলুদ কার্ড দেখার সুবাদে ব্রাজিলকে টপকে গ্রুপের শীর্ষে অবস্থান করছে আফ্রিকান জায়ান্ট মরক্কো।

১৪ জুন ২০২৬, ৯:৫৯ পূর্বাহ্ণ 

ভিনির গোলে লড়াইয়ে শেষ রক্ষা ব্রাজিলের
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ব্রাজিল-মরক্কোর এই হাড্ডাহাড্ডি ম্যাচটিকে যদি এক বাক্যে প্রকাশ করতে হয়, তবে বলতে হবে- ‘নোবডি ডিজার্ভ টু উইন’ বা ‘কারও হারার যোগ্যতা ছিল না’। মাঠের লড়াইয়ে জেতেওনি কেউ। মেটলাইফ স্টেডিয়ামের ৮০ হাজারেরও বেশি দর্শকের উপস্থিতিতে চলা এই ম্যাচে ফুটবলপ্রেমীরা উপভোগ করলেন এক রাজকীয় দ্বৈরথ।

বিশ্বকাপের এই হাইভোল্টেজ ম্যাচটিতে ফুটবলের সব উপাদানই উপস্থিত ছিল- গতি, আক্রমণ, পাল্টা-আক্রমণ, নান্দনিক গোল আর মাঠের তুমুল উন্মাদনা। পরিসংখ্যানের দিকে তাকালে দেখা যায় দুই দলই লড়েছে সমানে সমানে। বল দখলে ব্রাজিলের পক্ষে ছিল ৫১ শতাংশ এবং মরক্কোর দখলে ছিল ৪৯ শতাংশ। এমনকি লক্ষ্যে শটের সংখ্যাও ছিল প্রায় কাছাকাছি। তবে সুযোগ হাতছাড়া করার দিক থেকে আফ্রিকান চ্যাম্পিয়ন মরক্কো কিছুটা এগিয়ে থাকবে।

ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল দারুণ উপভোগ্য। দুই দলই প্রাণবন্ত ও আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দেয়। প্রথমার্ধে সুযোগ তৈরি এবং আক্রমণের ধারে ব্রাজিলকে স্পষ্টভাবেই ছাপিয়ে যাচ্ছিল মরক্কো। ম্যাচের ২০তম মিনিটে ব্রাজিলের রক্ষণভাগ চিরে দুর্দান্ত এক থ্রু পাস বাড়ান মরক্কোর ব্রাহিম দিয়াজ। সেই নিখুঁত পাস ধরে দুই ব্রাজিলিয়ান সেন্টার-ব্যাককে গতিতে পেছনে ফেলে ডি-বক্সে ঢুকে পড়েন ইসমাইল সাইবারি। ব্রাজিলের গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকার লাইন ছেড়ে বেরিয়ে এলেও সাইবারি এতটুকু বিচলিত হননি। অত্যন্ত ঠান্ডা মাথায় এক আলতো চিপ শটে বল জালে জড়িয়ে মরক্কোকে উল্লাসে ভাসান তিনি।

গোল হজমের পর সেলেসাওদের কিছুটা নিস্তেজ মনে হলেও ফুটবল বিশ্বকে তারা মনে করিয়ে দিল- ব্রাজিলের আভিজাত্য কখনো হারিয়ে যায় না। ঠিক ১০ মিনিটের ব্যবধানে ব্রাজিলকে সমতায় ফেরান ভিনিসিউস জুনিয়র। ৩২তম মিনিটে বাম প্রান্ত দিয়ে ডি-বক্সে ঢুকে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের বোকা বানিয়ে দুর্দান্ত এক বাঁকানো শটে গোল করেন ভিনি। এই গোল ব্রাজিল শিবিরে স্বস্তি ও আত্মবিশ্বাস ফিরিয়ে আনে।

প্রথমার্ধের সেই অতি-উত্তেজনা দ্বিতীয়ার্থে কিছুটা কমে গেলেও দুই দলই গোলের জন্য মরিয়া ছিল। ম্যাচের শেষ দিকে বেশ কয়েকটি বড় সুযোগ হাতছাড়া করে ব্রাজিল। বিশেষ করে মরক্কোর গোলরক্ষক ইয়াসিন বুনোকে একা পেয়েও পরাস্ত করতে পারেননি বার্সেলোনা ফরোয়ার্ড রাফিনহা। অন্যদিকে ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে মরক্কোর নিল এল আইনাউইয়ের একটি বিপজ্জনক নিচু শট দুর্দান্ত দক্ষতায় রুখে দিয়ে ব্রাজিলের এক পয়েন্ট নিশ্চিত করেন অ্যালিসন।

টানটান লড়াইয়ের এই রোমাঞ্চকর ম্যাচটি শেষ পর্যন্ত অমীমাংসিতভাবেই শেষ হয়। ১-১ গোলের এই ড্রয়ের পর, কম হলুদ কার্ড দেখার সুবাদে রানরেট ও ফেয়ার প্লে-র হিসেবে ব্রাজিলকে পাশ কাটিয়ে ‘সি’ গ্রুপের পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে মরক্কো।