শুক্রবার, ১৯ জুন, ২০২৬

পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস


হিউস্টনে ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপে এক মহানাটকীয় ও ঐতিহাসিক মুহূর্তের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। শক্তিশালী পর্তুগালকে ১–১ গোলে রুখে দিয়ে ইতিহাস গড়েছে আফ্রিকার লড়াকু দল ডিআর কঙ্গো। এই ড্রয়ের মধ্য দিয়ে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো গোল করা এবং পয়েন্ট পাওয়ার অবিস্মরণীয় গৌরব অর্জন করল তারা। ম্যাচের শুরুতে পিছিয়ে পড়েও দুর্দান্ত কামব্যাকের এই গল্প কঙ্গো ফুটবল ইতিহাসের পাতায় স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে।

১৮ জুন ২০২৬, ৯:৪২ পূর্বাহ্ণ 

পর্তুগালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর ইতিহাস
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ম্যাচের শুরু থেকেই ফেবারিট পর্তুগাল তাদের স্বভাবসুলভ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে শুরু করে। যার ফল তারা পেয়ে যায় ম্যাচের মাত্র ৬ মিনিটেই। পিএসজি মিডফিল্ডার জোয়াও নেভেস দারুণ এক ফিনিশিংয়ে দলকে এগিয়ে নেন। পেদ্রো নেটোর চমৎকার পাস থেকে বল জালে পাঠাতে কোনো ভুল করেননি তিনি। এটি পর্তুগালের জাতীয় দলের জার্সিতে নেভেসের চতুর্থ গোল।

শুরুতেই গোল হজম করে ধাক্কা খেলেও দমে যায়নি ডিআর কঙ্গো। প্রথমার্ধের বেশিরভাগ সময় রক্ষণভাগে প্রচণ্ড চাপে থাকলেও তারা সুযোগের অপেক্ষায় ছিল। অবশেষে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে (ইঞ্জুরি টাইম) আসে সেই মাহেন্দ্রক্ষণ। ডান প্রান্ত থেকে আর্থার মাসুয়াকুর বাড়ানো এক নিখুঁত ক্রসে দারুণ হেডে গোল করেন ইওয়ান উইসা। কঙ্গোর ফুটবল ইতিহাসে প্রথম বিশ্বকাপ গোলের এই আবেগঘন উদযাপনের মধ্য দিয়ে ১–১ সমতায় শেষ হয় প্রথমার্ধের খেলা।

বিরতির পর পর্তুগাল আবারও কঙ্গোর রক্ষণভাগের ওপর চড়াও হয়। ম্যাচের ৫৫ মিনিটে জোয়াও ক্যানসেলো বল জালে পাঠিয়ে পর্তুগাল শিবিরে উল্লাস এনেছিলেন, তবে অফসাইডের কারণে রেফারি সেই গোলটি বাতিল করলে নাটকীয়তা বাড়ে।

এরপর ম্যাচের বাকিটা সময় ইউরোপের অন্যতম পরাশক্তিরা একের পর এক আক্রমণ চালালেও কঙ্গোর জমাট রক্ষণভাগ ভাঙতে পারেনি। পর্তুগালের আক্রমণভাগের সবচেয়ে বড় ভরসা ও বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম মহাতারকা ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো বেশ কয়েকটি গোলের সুযোগ পেয়েছিলেন, কিন্তু কঙ্গোর ডিফেন্ডারদের কড়া পাহারা আর নিজের ব্যর্থতায় তা কাজে লাগাতে পারেননি।

শেষ বাঁশি বাজার সাথে সাথে ১–১ সমতায় শেষ হয় মাঠের লড়াই। এই একটি মাত্র ড্র কঙ্গোর জন্য জয়ের চেয়েও বড় আনন্দ বয়ে আনে, কারণ এর মাধ্যমেই বিশ্বমঞ্চে নিজেদের প্রথম গোল ও প্রথম পয়েন্টের খাতা খুলল দলটি। অন্যদিকে, অপেক্ষাকৃত দুর্বল প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে নিশ্চিত জয়ের সুযোগ হাতছাড়া করে চরম হতাশা আর এক পয়েন্ট নিয়েই মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগালকে।