সোমবার, ১৩ জুলাই, ২০২৬
অতিরিক্ত সময়ে দুই গোল করে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে আর্জেন্টিনা। টানা দ্বিতীয় বিশ্বকাপে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়া ২০২২ সালের চ্যাম্পিয়নরা এখন আরেক ধাপ দূরে শিরোপা ধরে রাখার লক্ষ্য থেকে।

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা


১২ জুলাই ২০২৬, ১০:২৭ পূর্বাহ্ণ 

সুইজারল্যান্ডকে হারিয়ে সেমিফাইনালে আর্জেন্টিনা
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডকে ৩-১ ব্যবধানে হারিয়ে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করেছে আর্জেন্টিনা। নির্ধারিত সময়ে ১-১ সমতায় শেষ হওয়া ম্যাচটি গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে, যেখানে দুই গোল করে জয় নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। এই জয়ে টানা দ্বিতীয়বারের মতো বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠল ২০২২ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে আর্জেন্টিনা। এরই ধারাবাহিকতায় ১১ মিনিটে এগিয়ে যায় আলবিসেলেস্তেরা। লিওনেল মেসির নেওয়া কর্নার থেকে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার। প্রথমার্ধে আরও কয়েকটি সুযোগ তৈরি করলেও ব্যবধান বাড়াতে পারেনি আর্জেন্টিনা।

দ্বিতীয়ার্ধে বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখলেও ধীরে ধীরে রক্ষণাত্মক হয়ে পড়ে আর্জেন্টিনা। সেই সুযোগে আক্রমণের গতি বাড়ায় সুইজারল্যান্ড। একের পর এক কর্নার ও ফ্রি-কিক আদায় করে চাপ সৃষ্টি করে তারা।

এক পর্যায়ে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের ভুলে গোলরক্ষক এমিলিয়ানো মার্তিনেজের সামনে একা বল পেয়ে যান ব্রিল এমবোলো। তবে দ্রুত এগিয়ে এসে দুর্দান্ত সেভ করে আর্জেন্টিনাকে নিশ্চিত বিপদ থেকে রক্ষা করেন এমিলিয়ানো।

এরপরই সমতায় ফেরে সুইজারল্যান্ড। বাম দিক থেকে দারুণ এক বাঁকানো শটে গোল করে ম্যাচে ১-১ সমতা আনেন দান এনদোয়ে। গোলরক্ষক মার্তিনেজকে পরাস্ত করে জালে বল জড়িয়ে ম্যাচে নতুন উত্তেজনা সৃষ্টি করেন তিনি।

তবে গোলের কিছুক্ষণ পরই বড় ধাক্কা খায় সুইজারল্যান্ড। দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় ব্রিল এমবোলোকে। প্রথমার্ধে একটি হলুদ কার্ড দেখার পর দ্বিতীয়বার প্রতারণার আশ্রয় নেওয়ায় ভিএআরের সহায়তায় তাকে লাল কার্ড দেখান রেফারি। ফলে শেষ সময়ে ১০ জনের দলে পরিণত হয় সুইসরা।

একজন খেলোয়াড় বেশি নিয়েও নির্ধারিত সময়ে আর গোল আদায় করতে পারেনি আর্জেন্টিনা। ফলে ১-১ সমতায় শেষ হয় ৯০ মিনিটের খেলা এবং ম্যাচ গড়ায় অতিরিক্ত সময়ে।

অতিরিক্ত সময়ের প্রথমার্ধেও গোলশূন্য থাকে দুই দল। মেসির নেওয়া একটি ফ্রি-কিক প্রতিপক্ষের রক্ষণে লেগে ফিরে আসে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণের জন্য অপেক্ষা করতে হয় শেষ ১৫ মিনিট পর্যন্ত।

অবশেষে ১১২ মিনিটে আসে কাঙ্ক্ষিত গোল। বক্সের বাইরে থেকে দুর্দান্ত বাঁকানো শটে জাল খুঁজে নেন হুলিয়ান আলভারেজ। পুরো টুর্নামেন্টে তুলনামূলক নিষ্প্রভ থাকা এই ফরোয়ার্ডের গোলেই আবারও এগিয়ে যায় আর্জেন্টিনা।

যোগ করা সময়ে ব্যবধান আরও বাড়ায় আলবিসেলেস্তেরা। থিয়াগো আলমাদার প্রথম শট ঠেকিয়ে দেন সুইস গোলরক্ষক গ্রেগর কোবেল। তবে ফিরতি বলে কোনো ভুল করেননি লাউতারো মার্তিনেজ। তার গোলে ৩-১ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত করে আর্জেন্টিনা।

শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গে সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করে লিওনেল মেসির দল। শিরোপা ধরে রাখার মিশনে আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বাধা পেরিয়ে এখন বিশ্বকাপের শেষ চারের লড়াইয়ের অপেক্ষায় আর্জেন্টিনা।