মঙ্গলবার, ১২ মে, ২০২৬

অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই


বাংলা নাট্যাঙ্গনের উজ্জ্বল নক্ষত্র, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই (ইন্নালিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে নেমে এসেছে গভীর শোকের ছায়া।

১২ মে ২০২৬, ৮:৪২ পূর্বাহ্ণ 

অভিনেতা আতাউর রহমান আর নেই
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

বাংলা নাট্যাঙ্গনের প্রথিতযশা ব্যক্তিত্ব, স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক সংগঠক আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর। তাঁর মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন অভিনেতা রওনক হাসান এবং অভিনয়শিল্পী সংঘের সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মামুন অপু

আতাউর রহমানের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করে রওনক হাসান বলেন, “না ফেরার দেশে চলে গেলেন স্বাধীনতা পদকপ্রাপ্ত সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব, মঞ্চের প্রেরণাদায়ী সারথি আতাউর রহমান। আমরা তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করছি।” এর আগে সোমবার বিকেলে আতাউর রহমানের গুরুতর অসুস্থতার খবর জানা যায়। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয় বলে জানান তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান

সংবাদমাধ্যমে শর্মিষ্ঠা রহমান বলেন, “আব্বার অবস্থা খুব একটা ভালো না। তাঁর শরীরের একাধিক অঙ্গপ্রত্যঙ্গ বিকল হয়ে পড়েছে বলে চিকিৎসকরা জানিয়েছেন। সবার কাছে আমার আব্বার সুস্থতার জন্য দোয়া চাই।”গত শুক্রবার বাসায় পড়ে যাওয়ার পর থেকেই আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটে। প্রথমে তাকে গুলশানের একটি হাসপাতালে নেওয়া হলেও সেখানে আইসিইউ সুবিধা না থাকায় পরে ধানমন্ডির আরেকটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।

ভর্তির পরপরই তাকে লাইফ সাপোর্টে রাখা হয়েছিল। পরে শারীরিক অবস্থার সাময়িক উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। কিন্তু আবার অবস্থার অবনতি হলে রোববার তাকে পুনরায় লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। এর দুইদিন পরই আসে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ।

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্মগ্রহণ করেন আতাউর রহমান। তিনি ছিলেন বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনের এক বহুমাত্রিক ব্যক্তিত্ব। একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক হিসেবে তিনি দীর্ঘদিন কাজ করেছেন।

স্বাধীনতাযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশের মঞ্চনাট্য আন্দোলনের অন্যতম অগ্রদূত হিসেবে তিনি বিশেষভাবে পরিচিত ছিলেন। দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে অসামান্য অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অর্জন করেন একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদক। তাঁর মৃত্যুতে দেশের সাংস্কৃতিক অঙ্গনে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, ভক্ত ও শুভানুধ্যায়ীরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শোক প্রকাশ করছেন এবং তাঁর আত্মার মাগফিরাত কামনা করছেন।