বুধবার, ২২ এপ্রিল, ২০২৬

মানবিক বিবেচনায় জামিন পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী


রাজধানীর তেজগাঁও থানার বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর মাত্র চার ঘণ্টার মধ্যেই জামিন দিয়েছেন আদালত। মানবিক বিবেচনায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

২১ এপ্রিল ২০২৬, ৯:১১ অপরাহ্ণ 

মানবিক বিবেচনায় জামিন পেলেন যুব মহিলা লীগ নেত্রী
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

রাজধানীর তেজগাঁও থানায় দায়ের করা বিস্ফোরক আইনের মামলায় গ্রেপ্তার যুব মহিলা লীগ নেত্রী শিল্পী বেগমকে কারাগারে পাঠানোর চার ঘণ্টার মধ্যেই জামিন দিয়েছেন আদালত।

মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) শুনানি শেষে ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ মোস্তাফিজুর রহমান মানবিক দিক বিবেচনায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। এর আগে ঢাকার অতিরিক্ত মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আওলাদ হোসাইন মুহাম্মদ জোনাইদ জামিন নামঞ্জুর করে শিল্পী বেগমকে তার দেড় মাস বয়সী সন্তান কাইফা ইসলাম সিমরানসহ কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

মামলার তদন্ত কর্মকর্তা উপপরিদর্শক শেখ নজরুল ইসলাম আদালতে আসামিকে কারাগারে আটক রাখার আবেদন জানান। তিনি বলেন, মামলার ঘটনায় শিল্পীর সম্পৃক্ততার বিষয়ে পর্যাপ্ত সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে এবং তাকে প্রাথমিকভাবে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।

আবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দমনে শিল্পী বেগম সক্রিয় ভূমিকা পালন করেছেন বলে তদন্তে উঠে এসেছে। তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত তাকে জেলহাজতে রাখা প্রয়োজন বলেও জানানো হয়। অন্যদিকে, আসামির পক্ষে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি জামিন আবেদন করে জানান, শিল্পীর এক মাস ১৬ দিনের শিশু সন্তান রয়েছে এবং সম্প্রতি তার সিজারিয়ান অপারেশন হয়েছে। মানবিক বিবেচনায় যেকোনো শর্তে জামিন দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।

মামলার সূত্রে জানা যায়, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়-এর আধুনিক ভাষা ইনস্টিটিউটের দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী মো. তাহমিদ মুবিন রাতুল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের একজন সক্রিয় কর্মী ছিলেন। ২০২৪ সালের ১৬ জুলাই চানখাঁরপুল এলাকায় আন্দোলন চলাকালে তিনি গুলিবিদ্ধ হন এবং পরে তাকে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল-এ ভর্তি করা হয়।

অভিযোগ অনুযায়ী, চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা তাদের ওপর হামলা চালায়। পরে শিল্পী বেগমের নির্দেশে ২৩ জুলাই সন্ধ্যায় ১২০-১৩০ জন অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিকে নিয়ে ভুক্তভোগীর বাসায় হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও বোমা বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েক লাখ টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয় এবং ভুক্তভোগীর পিতাকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ২০২৫ সালের ২৫ জানুয়ারি তেজগাঁও থানায় মামলা দায়ের করা হয়।