বিসিবির নতুন সভাপতি তামিম ইকবাল, ৩ মাসের অ্যাডহক কমিটির দায়িত্ব গ্রহণ
১০ এপ্রিল ২০২৬, ২:০৪ অপরাহ্ণ
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী। শুক্রবার (১০ এপ্রিল) সকালে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে তিনি এ আশ্বাস দেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, পূর্ববর্তী বাংলাদেশ আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে রাজস্ব আয়ের তুলনায় ব্যয়ের পরিমাণ বেশি থাকায় বড় ধরনের বাজেট ঘাটতি তৈরি হয়। মেগা প্রকল্পে অতিরিক্ত ব্যয় হলেও সাধারণ মানুষ এর প্রত্যাশিত সুফল পায়নি বলে মন্তব্য করেন তিনি। অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন ও টাকা পাচারের কারণে দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ একসময় ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসে। গত ১৬ বছরে লাগামহীন দুর্নীতির কারণে অর্থনীতি ধ্বংসের দ্বারপ্রান্তে পৌঁছেছিল বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অর্থমন্ত্রীর ভাষ্য অনুযায়ী, টাকার মান প্রায় অর্ধেকে নেমে যাওয়ায় আমদানি ব্যয় বেড়ে যায় এবং এর প্রভাবে মূল্যস্ফীতি ত্বরান্বিত হয়। ফলে সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গিয়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়েছে। তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল নেতৃত্বাধীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার ১০ দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরু হয়। এর ফলে জ্বালানি তেল ও এলএনজির দাম প্রায় দ্বিগুণ হয়ে যায়। তবুও জনগণের স্বার্থে সরকার ভর্তুকি দিয়ে জ্বালানির দাম নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
প্রতিকূল বৈশ্বিক পরিস্থিতির মধ্যেও অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে জানিয়ে অর্থমন্ত্রী বলেন, ২০৩৪ সালের লক্ষ্য অর্জনে সরকার প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিচ্ছে। এর আগে, জাতীয় সংসদের অধিবেশনের ১২তম দিনে (৯ এপ্রিল) মোট ৩১টি বিল পাস হয়। এসব বিল সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ও প্রতিমন্ত্রীরা উত্থাপন করেন।
পাস হওয়া বিলগুলোর মধ্যে রয়েছে- জাতীয় ক্রীড়া পরিষদ (সংশোধন), বঙ্গবন্ধু ক্রীড়াসেবী কল্যাণ ফাউন্ডেশন (সংশোধন), শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট (সংশোধন), বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (সংশোধন), পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন), বৈদেশিক কর্মসংস্থান ও অভিবাসী (সংশোধন), বাংলাদেশ শ্রম সংশোধন, স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) (সংশোধন), আইনগত সহায়তা প্রদান (সংশোধন) এবং জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (সংশোধন) বিল, ২০২৬।
এছাড়া ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা, বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ (সংশোধন), বাংলাদেশ গ্যাস (সংশোধন), মানবদেহে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ সংযোজন, বৈদেশিক অনুদান (স্বেচ্ছাসেবামূলক কার্যক্রম) রেগুলেশন (সংশোধন), মানবপাচার প্রতিরোধ, বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিলও পাস হয়েছে। অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু অধ্যাদেশ রহিত করে নতুন বিলও পাস করা হয়েছে। এর মধ্যে সুপ্রিম কোর্ট সংক্রান্ত কয়েকটি বিল এবং জাতীয় মানবাধিকার কমিশন সংশ্লিষ্ট বিল উল্লেখযোগ্য।