বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ


চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক রপ্তানি প্রায় ২৫ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে ইইউতে পোশাক আমদানি সামগ্রিকভাবেই কমেছে এবং বাংলাদেশের প্রতিযোগী দেশগুলোর রপ্তানিও বিভিন্ন হারে হ্রাস পেয়েছে।

২৭ মার্চ ২০২৬, ১১:০০ পূর্বাহ্ণ 

জানুয়ারিতে ইইউতে বাংলাদেশের পোশাক রপ্তানি কমেছে ২৫ শতাংশ
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

ইউরোস্ট্যাটসের সর্বশেষ পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারিতে ইইউভুক্ত দেশগুলো বিভিন্ন দেশ থেকে মোট ৭০৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় সাড়ে ১৫ শতাংশ কম। তবে পরিমাণের হিসেবে এই আমদানি কমেছে ৮ দশমিক ৩৬ শতাংশ।

তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারিতে ইইউভুক্ত দেশগুলো ৩৮ কোটি কেজির সমপরিমাণ তৈরি পোশাক আমদানি করেছে। অথচ গত বছরের একই সময়ে এই পরিমাণ ছিল প্রায় ৪১ কোটি কেজি।

ইইউ বাজারে তৈরি পোশাক রপ্তানিতে বরাবরের মতো শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে চীন। চলতি বছরের জানুয়ারিতে দেশটি এই অঞ্চলে ২২২ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে। তবে চীনের রপ্তানি আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ৬ দশমিক ৯০ শতাংশ কমেছে। একই সময়ে দেশটির প্রতি কেজি পোশাকের দামও প্রায় ৮ শতাংশ কমেছে।

ইইউর বাজারে দ্বিতীয় শীর্ষ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ বাংলাদেশ। জানুয়ারিতে বাংলাদেশ থেকে ইইউতে ১৪৩ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি হয়েছে। যা গত বছরের জানুয়ারিতে ছিল ১৯১ কোটি ইউরো। সেই হিসাবে এক বছরের ব্যবধানে বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে ২৫ দশমিক ২৫ শতাংশ।

পরিমাণের দিক থেকেও বাংলাদেশের রপ্তানি কমেছে উল্লেখযোগ্য হারে। চলতি বছরের জানুয়ারিতে রপ্তানির পরিমাণ কমেছে প্রায় সাড়ে ১৭ শতাংশ। ফলে এ সময় রপ্তানি করা পোশাকের গড় দাম কমেছে প্রায় ৯ দশমিক ৪১ শতাংশ।

ইইউতে তৃতীয় সর্বোচ্চ তৈরি পোশাক রপ্তানিকারক দেশ তুরস্ক। জানুয়ারিতে দেশটি ৬২ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ২৯ শতাংশ কম। তবে তুরস্কের রপ্তানি করা পোশাকের প্রতি কেজির দাম এই সময়ে ৩ দশমিক ৭২ শতাংশ বেড়েছে।

ইউরোস্ট্যাটের তথ্য অনুযায়ী, ইইউতে পরবর্তী বড় রপ্তানিকারক দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে ভিয়েতনাম ও ভারত। জানুয়ারিতে ভিয়েতনাম ৩৬ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক রপ্তানি করেছে, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় প্রায় ৭ শতাংশ কম। অন্যদিকে ভারত রপ্তানি করেছে ৩৪ কোটি ইউরোর তৈরি পোশাক, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫ শতাংশ কম।

তবে চলতি বছরের জানুয়ারিতে ভিয়েতনাম ও ভারতের রপ্তানি করা প্রতি কেজি তৈরি পোশাকের দাম যথাক্রমে ৬ দশমিক ৫০ শতাংশ এবং ১ দশমিক ৮৩ শতাংশ বেড়েছে। ইইউর বাজারে চাহিদা কমে যাওয়ার পাশাপাশি বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির প্রভাবেই এসব দেশের রপ্তানিতে এই নিম্নমুখী প্রবণতা দেখা যাচ্ছে বলে সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন।