শুক্রবার, ১০ এপ্রিল, ২০২৬

অফিস সময় কমলো, সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ থাকবে দোকানপাট


মধ্যপ্রাচ্যের চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতিকে কেন্দ্র করে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একগুচ্ছ কৃচ্ছ্রসাধনমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। আগামী ৫ এপ্রিল থেকে অফিস সময় কমানো, সন্ধ্যার পর দোকানপাট বন্ধ রাখা এবং বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জা নিষিদ্ধসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ কার্যকর করা হবে।

৩ এপ্রিল ২০২৬, ৯:৫৩ পূর্বাহ্ণ 

অফিস সময় কমলো, সন্ধ্যা ৬টার পর বন্ধ থাকবে দোকানপাট
  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় বিদ্যুৎ ও জ্বালানি সাশ্রয়ের লক্ষ্যে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। এসব সিদ্ধান্ত আগামী রোববার (৫ এপ্রিল) থেকে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) রাত পৌনে ১২টার দিকে মন্ত্রিসভার জরুরি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গনি। রাজধানীর জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ কক্ষে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বৈঠকটি রাত সাড়ে ১১টায় শেষ হয়।

নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, সরকারি-বেসরকারি সব অফিসের সময় এক ঘণ্টা কমিয়ে দৈনিক ৭ ঘণ্টা নির্ধারণ করা হয়েছে। অফিস চলবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত। ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান খোলা থাকবে সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত।

এছাড়া জ্বালানি সাশ্রয়ের অংশ হিসেবে সন্ধ্যা ৬টার পর সারাদেশে শপিংমল ও দোকানপাট বন্ধ রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিয়েবাড়িতে আলোকসজ্জা বন্ধ রাখতেও বলা হয়েছে। সরকারি ব্যয় সংকোচনের লক্ষ্যে আগামী তিন মাসের জন্য নতুন যানবাহন ক্রয় বন্ধ রাখা হয়েছে। এর আওতায় স্থল, নৌ ও আকাশযানসহ কোনো ধরনের যানবাহন কেনা যাবে না। একইসঙ্গে কম্পিউটারসহ অন্যান্য সামগ্রী ক্রয়েও নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।

সরকারি অর্থায়নে বৈদেশিক প্রশিক্ষণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত স্থগিত রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণের ক্ষেত্রেও ৫০ শতাংশ কমানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এছাড়া সভা-সেমিনারের আপ্যায়ন ব্যয় ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে। জ্বালানি, বিদ্যুৎ ও গ্যাস খাতে সরকারি ব্যয় ৩০ শতাংশ পর্যন্ত কমানোর পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। অপ্রয়োজনীয় ভ্রমণও ৩০ শতাংশ কমাতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান সংক্রান্ত সিদ্ধান্ত এখনো চূড়ান্ত হয়নি। এ বিষয়ে রোববার শিক্ষা মন্ত্রণালয় পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে আলাদা নির্দেশনা দেবে বলে জানিয়েছেন মন্ত্রিপরিষদ সচিব। সরকারের এই পদক্ষেপগুলোকে আসন্ন জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় একটি জরুরি উদ্যোগ হিসেবে দেখা হচ্ছে।