বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬
চালক -যাত্রী তর্ক

“অধিকাংশ চালকই চলন্ত বাসে ধূমপান করে থাকে, আপনি তা জানেন না।” ....চালক, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন


“অধিকাংশ চালকই চলন্ত বাসে ধূমপান করে থাকে, আপনি তা জানেন না।”
“অধিকাংশ চালকই চলন্ত বাসে ধূমপান করে থাকে, আপনি তা জানেন না।” ....চালক, ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহন

ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৭১৭,ইউনিক পরিবহন | ছবি: সংগৃহীত

  গুগল নিউজে ফলো করে আজকের প্রসঙ্গ এর সাথে থাকুন

কুয়াকাটা থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ইউনিক পরিবহনের একটি বাসে ধূমপান ও বেপরোয়া গতি নিয়ে যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনাকালে একথা বলেন, ইউনিক পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৭১৭ বাসের ড্রাইভার। বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা পাথওয়ে'র নির্বাহী পরিচালক মো. শাহিনের সঙ্গে বাকবিতন্ডার এক পর্যায়ে একথা বলেন ওই চালক ।

সাক্ষীদের তথ্যমতে, সোমবার(১৮ আগস্ট) বেলা ১১টার দিকে বাসটি আমতলী থেকে ছাড়ার পর পটুয়াখালী অতিক্রম করার সময় চালক চলন্ত গাড়িতে সিগারেট ধরান। এসময় পাথওয়ে নির্বাহী পরিচালক আপত্তি জানিয়ে বলেন, চলন্ত গাড়িতে ধূমপান আইনত নিষিদ্ধ ও শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কিন্তু চালক পাল্টা জবাব দেন, “অধিকাংশ চালকই ধূমপান করে থাকে, আপনি তা জানেন না।” এতে চালক, সুপারভাইজার ও হেল্পারের সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডা হয়।

পরে বিরতি শেষে বাস চলতে শুরু করলে চালক গতি ঘণ্টায় ৪০–৫০ কিলোমিটারের মধ্যে রাখেন। এতে অন্য যাত্রীরা গতি বাড়ানোর জন্য চাপ দিতে থাকেন। কেউ কেউ বলেন, “ট্রাফিক পুলিশ ধরলে জরিমানা আমরা দেবো।” তবে চালক জানান, তিনি আইন ভঙ্গ করে গতি বাড়াবেন না, কারণ পাথওয়ে নির্বাহী পরিচালক তাকে সতর্ক করেছেন। ঘটনার পর যাত্রীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।

গাড়িতে থাকা ঢাকা গামী যাত্রী মাহামুদুল হাসান বলেন, এই রুটে অতিরিক্ত গতি এবং চালকদের অসচেতনতার কারণে প্রায়ই দূর্ঘটনা ঘটে থাকে। আর ধুমপানের বিষয়টি আমিও মেনে নিতে পারেনি। এগুলো আইন করে বন্ধ করা উচিত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ইউনিক পরিবহনের ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৯৭১৭ বাসের ড্রাইভার বলেন, এটি অতি সামান্য বিষয়। এটা নিয়ে এতকিছু হবে ভাবিনি। তবে শাহিন স্যার বলার পরে আমি গতি কমিয়ে গাড়ি চালিয়েছি।

পাথওয়ে'র নির্বাহী পরিচালক মো.শাহিন বলেন, “আমরা কবে সচেতন হব? প্রতিদিন কুয়াকাটা সড়কে দুর্ঘটনা ঘটছে, অথচ যাত্রীরাই চালককে বেপরোয়া গতিতে চালাতে উৎসাহ দিচ্ছে। তিনি আরও বলেন, আমি একজন ক্যান্সার আক্রান্ত রোগী। সিগারেটের ধোঁয়া আমাদের কষ্ট দেয়ায় তাকে মানা করেছি। ” বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, গণপরিবহনে ধূমপান ও বেপরোয়া গতি নিয়ন্ত্রণে না আনলে সড়ক দুর্ঘটনা হ্রাস করা সম্ভব নয়। এ ব্যাপারে উর্ধতন কতৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তিনি।

বিআরটিএ বরিশাল বিভাগের উপ পরিচালক মো. রফিকুল ইসলাম মুঠোফোনে ধূমপানের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, চলন্ত গাড়িতে গণপরিবহনে ধূমপান শাস্তি যোগ্য অপরাধ। লিখিত অভিযোগ পেলে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।