ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি: ৪৮ ঘণ্টায় চুক্তি না হলে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’
২৮ মার্চ ২০২৬, ৯:০৫ অপরাহ্ণ
লড়াইটা বয়সভিত্তিক সাফের হলেও সবুজ গালিচায় প্রতিপক্ষ যখন ভারত, তখন উত্তাপটা থাকে অন্যরকম। মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে আজ বাংলাদেশ-ভারত লড়াইয়েও দেখা গেছে সেই চিরচেনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার ঝাঁজ। প্রথমার্ধের নাটকীয়তার পর দ্বিতীয়ার্ধে কাঙ্ক্ষিত জয়সূচক গোলটি পায়নি বাংলাদেশ। শেষ পর্যন্ত ম্যাচটি ১-১ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়েছে।
ম্যাচ ড্র হওয়ায় পয়েন্ট সমান হলেও গ্রুপ পর্বের গোল ব্যবধানে এগিয়ে থাকার সুবাদে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হিসেবেই সেমিফাইনালে পা রাখে ভারত। অন্যদিকে, গ্রুপ রানার্সআপ হয়ে শেষ চারের টিকিট পায় লাল-সবুজের প্রতিনিধিরা।
মালেতে অনূর্ধ্ব-২০ সাফ চ্যাম্পিয়নশিপের আজকের ম্যাচের প্রথমার্ধ ছিল নাটকীয়তায় ভরপুর। ম্যাচের শুরু থেকেই দুই দল আক্রমণ-পাল্টা আক্রমণে খেলতে থাকে। তবে ১৭ মিনিটে প্রথম সাফল্য পায় ভারত। বাঁ প্রান্ত থেকে ভেসে আসা কর্নার থেকে হেডে বল জালে জড়ান আনমার্কড ফরোয়ার্ড বিশাল যাদব। বাংলাদেশের গোলরক্ষক মাহিনকে কোনো সুযোগই দেননি তিনি। এবারের টুর্নামেন্টে এটি ছিল তার দ্বিতীয় গোল।
গোল হজমের পর সমতায় ফেরার চেষ্টা চালাতে থাকে বাংলাদেশ। কিন্তু ৩৯ মিনিটে বড় ধাক্কা খায় দলটি। চোট পেয়ে স্ট্রেচারে করে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন দলের অন্যতম ভরসা ডিফেন্ডার আশিকুর রহমান। তার বদলি হিসেবে মাঠে নামেন আব্দুল রিয়াদ ফাহিম।
প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে ম্যাচে চরম নাটকীয়তা দেখা যায়। টাচলাইনের কাছে ভারতের এক খেলোয়াড়কে কঠোর ট্যাকল ঘিরে দুই দলের ডাগআউটে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। দুই দলের প্রধান কোচের মধ্যে হাতাহাতির পরিস্থিতিও তৈরি হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রেফারি ভারতের সাপোর্ট স্টাফ মহেশ গাউলিকে হলুদ কার্ড দেখান। এরপর বাংলাদেশের ইংলিশ হেড কোচ মার্ক কক্সকে সরাসরি লাল কার্ড দেখান।
ডাগআউট থেকে কোচকে হারিয়েও খেই হারায়নি বাংলাদেশ। বরং যোগ করা সময়ের ১০ম মিনিটে দুর্দান্ত এক গোলে সমতায় ফেরে দলটি। বাঁ প্রান্ত থেকে যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসী রোনান সুলিভানের দারুণ এক ক্রস বক্সে পেয়ে যান বদলি নামা আব্দুল রিয়াদ ফাহিম। তার নেওয়া চমৎকার ভলিতে সমতায় ফেরে বাংলাদেশ।
১-১ সমতায় থেকে বিরতির পর মাঠে নেমে আরও আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকে বাংলাদেশ। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন সুমন। দুই দলের উইং দিয়ে একের পর এক আক্রমণ তৈরি হলেও ফিনিশিংয়ের অভাবে গোল আসছিল না।
৬৪ মিনিটে নিশ্চিত গোলের হাত থেকে বাংলাদেশকে বাঁচান গোলরক্ষক মাহিন। ভারতের ওমং দোদুম বক্সে ঢুকে ফাঁকায় শট নেওয়ার সুযোগ পেলেও মাহিন তা কর্নারের বিনিময়ে রুখে দেন। ৬৮ মিনিটে ভারতের আব্দুল বক্সের বাইরে ফাউল করে হলুদ কার্ড দেখেন।
ড্র করলেই গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হওয়া নিশ্চিত ছিল ভারতের। তাই ম্যাচের শেষদিকে তারা রক্ষণাত্মক কৌশল নেয়। অন্যদিকে, গ্রুপ সেরা হতে জয়ের বিকল্প না থাকায় অল-আউট আক্রমণে যায় বাংলাদেশ। তবে শেষ পর্যন্ত আর গোল না হওয়ায় ১-১ সমতা নিয়েই মাঠ ছাড়ে দুই দল। এই ড্রয়ের ফলে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন ভারত ও রানার্সআপ বাংলাদেশ-দুই দলই সেমিফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করেছে।