ইরানকে ট্রাম্পের নতুন হুমকি: ৪৮ ঘণ্টায় চুক্তি না হলে ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’
৩ এপ্রিল ২০২৬, ৮:৫৫ অপরাহ্ণ
শুধু ফ্রান্স নয়, বর্তমান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তারকা হিসেবে বিবেচিত হন কিলিয়ান এমবাপ্পে। মাত্র ১৮ বছর বয়সেই দলকে বিশ্বকাপ জেতানোর কৃতিত্ব পাওয়া এই ফরোয়ার্ড পরবর্তী আসরেও দলকে ফাইনালে তুলেছেন। জাতীয় দল ও ক্লাব-দুই জায়গাতেই ধারাবাহিক পারফরম্যান্সে নিজেকে নিয়ে গেছেন অনন্য উচ্চতায়। বর্তমানে রিয়াল মাদ্রিদ-এর এই তারকা বিশ্বের সেরা ফুটবলারদের একজন।
তবে এত সাফল্যের মাঝেও একসময় জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বসেছিলেন এমবাপ্পে। কারণ ছিল সমর্থকদের বর্ণবাদী আক্রমণ।
ইউরোপীয় ফুটবলে বর্ণবাদ নতুন কিছু নয়। প্রায়ই উগ্র সমর্থকদের আচরণের শিকার হতে হয় খেলোয়াড়দের। অনেকেই তা সহ্য করে এগিয়ে গেলেও, কারও কারও জন্য তা মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
২০২০ সালের উয়েফা ইউরো ২০২০-এর শেষ ষোলোতে সুইজারল্যান্ড-এর বিপক্ষে টাইব্রেকারে গুরুত্বপূর্ণ পেনাল্টি মিস করার পর তীব্র সমালোচনা ও বর্ণবাদী আক্রমণের শিকার হন এমবাপ্পে। সেই সময়টাকেই নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বর্ণনা করেছেন তিনি।
‘দ্য ব্রিজ’ পডকাস্টে এমবাপ্পে বলেন, “আমাকে ‘বানর’ বলা শুরু হয়েছিল জাতীয় দলই ছিল আমার সবকিছু। কিন্তু এখানে এমন মানুষ আছে, যারা তুমি গোল না করলে তোমাকে একেবারে নিচে নামিয়ে দেবে।এক জায়গায় সব আশা রাখা উচিত নয়, কারণ সেটাই পরে আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার হতে পারে। সময়টা ছিল ভয়াবহ কঠিন। ছুটিতে গিয়ে নিজেকে হাঁটতে থাকা মৃত মানুষ মনে হচ্ছিল।”
এই ঘটনার পর জাতীয় দল ছাড়ার সিদ্ধান্ত প্রায় নিয়েই ফেলেছিলেন তিনি। সে সময় ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশন-এর সভাপতি নোয়েল লে গ্রা-এর সঙ্গে উত্তপ্ত আলোচনাও করেন এমবাপ্পে।
এমবাপ্পের ভাষায়, “আমি তাকে বলেছিলাম, আমি আর খেলব না। আমি যাদের জন্য খেলছি, তারা যদি আমাকে ‘বানর’ ভাবে, তাহলে তাদের জন্য খেলা সম্ভব না।” তবে লে গ্রার দৃঢ় অবস্থানই শেষ পর্যন্ত এমবাপ্পেকে সিদ্ধান্ত পরিবর্তনে বাধ্য করে। “তুমি কি ভাবছো এভাবে চলে যেতে পারবে? এটা ভুলে যাও”-এই কথাই তাকে নতুন করে ভাবতে বাধ্য করে বলে জানান তিনি।
অবশেষে সেই অন্ধকার সময় পেছনে ফেলে দারুণভাবে ঘুরে দাঁড়ান এমবাপ্পে। ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২-এ আবারও ফ্রান্সকে ফাইনালে তুলতে বড় ভূমিকা রাখেন তিনি। ফাইনালে আর্জেন্টিনা-এর বিপক্ষে তার হ্যাটট্রিক বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম সেরা ব্যক্তিগত পারফরম্যান্স হিসেবে বিবেচিত হয়।
বর্তমানে ফ্রান্স জাতীয় দলের অধিনায়ক এমবাপ্পে। দেশের হয়ে ৯৬ ম্যাচে ৫৬ গোল করে তিনি সর্বকালের সর্বোচ্চ গোলদাতা হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। অলিভার জিরু-এর ৫৭ গোলের রেকর্ড ছুঁতে তার প্রয়োজন মাত্র একটি গোল। সবকিছু মিলিয়ে, এক সময় বর্ণবাদী আক্রমণে জাতীয় দল ছাড়ার পথে থাকা এই তারকাই এখন ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভরসা-এটাই যেন এমবাপ্পের গল্পের সবচেয়ে বড় শক্তি।